গ্রাফিক ডিজাইন কী?

গ্রাফিক শব্দটি জার্মান শব্দ গ্রাফিক হতে এসেছে। গ্রাফিক শব্দটির অর্থ চিত্র বা রেখা।গ্রাফ শব্দের অর্থ চিত্র এবং ডিজাইন অর্থ নকশা।সহজ ভাষায়, চিত্র দ্বারা নকশা তৈরি করা বা করার প্রক্রিয়াকে বলে গ্রাফিক ডিজাইন।অন্য কথায়, ড্রইং ছবি বা কোনো ইমেজ এবং অক্ষর শিল্পই হচ্ছে গ্রাফিক ডিজাইন।

ডিজাইন কি?

ডিজাইন অর্থ নকশা করা। ডিজাইন হচ্ছে কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের উপর বস্তুর পরিকল্পিত অবস্থান। অর্থাৎ একটি ছবি বা চিত্র তৈরি করতে যে  নকশা করা হয় তাকেই বলা হয় ডিজাইন। নকশা তৈরীর মূল সূত্র সমূহ সঠিক ভাবে ব্যবহার করার মাধ্যমে একটি সঠিক নকশার জন্ম হয়। সংক্ষেপে বলা যায় কোনো সৃজনশীল কর্মের প্রাথমিক কাঠামোই হচ্ছে ডিজাইন।

এলিমেন্টস অফ ডিজাইনঃ
1. Lines
2. Shapes
3. Colors
4. Textures
5. Spaces

কেন গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখা প্রয়োজন

১. সৃজনশীল পেশা

ইতোমধ্যে নিশ্চয়ই উপলব্ধি করতে পারছেন যে গ্রাফিক্স ডিজাইন একটি সৃজনশীল পেশা। শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান দিয়ে কেউ ভালো মানের গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে পারে না। ভালো গ্রাফিক্স ডিজাইনার হওয়ার জন্য অবশ্যই ব্যবহারিক জ্ঞান থাকতে হয়। অর্থাৎ নিয়মিত ডিজাইন চর্চা করা এবং অন্যের ডিজাইন দেখার মাধ্যমে গ্রাফিক্স ডিজাইনের জ্ঞান বৃদ্ধি পায়।

গ্রাফিক্স ডিজাইনে মুখস্থ বিদ্যা কিংবা কপি-পেস্টের সুযোগ নেই বরং এখানে আপনার নিজের সৃজনশীলতাকে প্রকাশ করতে হবে। কাজেই, আপনার মধ্যে যদি আঁকা-আঁকির মতো সৃজনশীলতা থাকে, তবে আপনার গ্রাফিক্স ডিজাইন অবশ্যই শেখা দরকার।

২. ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং

গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার সবচাইতে বড় সুবিধা হলো গ্রাফিক্স ডিজাইনের মাধ্যমে আপনি ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং করতে পারবেন। যেহেতু বর্তমান সময়ে সবকিছু কম্পিউটার এবং প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে উঠেছে, তাই মানুষকে আকর্ষণ করতে গ্রাফিক্সের প্রয়োজন।

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে গ্রাফিক্স ডিজাইনের চাহিদা অনেক বেশি, যার ফলে আয়ের পরিমাণও বেশী। গ্রাফিক্সের চাহিদা এতটাই বেশী যে, শুধু গ্রাফিক্সের কাজের জন্য বেশ কিছু জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট প্লেস রয়েছে।

৩. ডিজাইন বিক্রি

আপনি যদি একজন প্রফেশনাল ডিজাইনার হন, তবে আপনি আপনার ডিজাইন অনলাইনে বিক্রি করার সুযোগ পাবেন। এর ফলে আপনি একবার ডিজাইন তৈরি করলে আজীবন সেই ডিজাইন থেকে অর্থ আয় করতে পারবেন। বর্তমান সময়ে অনলাইনে ডিজাইন বিক্রি করার বেশ কিছু জনপ্রিয় ওয়েবসাইট রয়েছে।

৪. স্বাধীনতা

উপরের আলোচনা থেকে  আশা করি আপনাদের এতটুকু বোধগম্য হয়েছে যে গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের স্বাধীনতা রয়েছে। যেমন ধরুন আপনি যখন অনলাইনে ডিজাইন বিক্রি করবেন, তখন আপনাকে কারো হুকুম মানতে হবে না। কিংবা কোনও সুনির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী কাজ করতে হবে না। আপনি কখন ডিজাইন করবেন, কিভাবে করবেন, এর সম্পূর্ণটাই আপনার নিজের ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে।

৫. চাকুরী করার সুযোগ

মজার ব্যাপার হলো গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের জন্যে স্বাধীনভাবে কাজ করার পাশাপাশি চাকুরী করার সুযোগ রয়েছে। গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের চাকুরীর সুযোগ সুবিধা এবং বেতনের পরিমাণ অনেক বেশি হয়ে থাকে। আমেরিকার Fastsigns, Inc কোম্পানি তাদের গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের ৪৫ হাজার ডলার বেতন দিয়ে থাকে। এছাড়া বোনাস ও অন্যান্য সুবিধা তো আছে।

বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম নয়, এখানে নতুন ডিজাইনরা হিসাবে যোগ দিলেও ২০ হাজার টাকা বেতনে চাকুরী করার সুযোগ রয়েছে। আর প্রফেশনাল হলে তো ১ লক্ষ টাকার উপরে বেতন পাবেন।

৬. কাজের ক্ষেত্র এবং আয়ের পরিমাণ বেশি

গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজের ক্ষেত্র কতটা বেশি আশা করি নতুন করে আর বলতে হবে না। চাকুরী এবং ফ্রিল্যান্সিং করার পাশাপাশি আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপর কোচিং, ইনস্টিউট কিংবা আইটি ফার্ম দিতে পারবেন। রিমোট জব করার সুবিধা রয়েছে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসাবে। বর্তমান সময়ে অধিকাংশ কোম্পানি তাদের ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইট পরিচালনার জন্যে পার্টটাইম বা ফুল-টাইম গ্রাফিক্স ডিজাইনার রাখে। এসব রিমোট জব আপনি ঘরে বসে করার সুযোগ পাবেন।

চাকুরী করে গ্রাফিক্স ডিজাইনার যতটা না আয় করতে পারেন, তার থেকে বেশী আয় করা সম্ভব ডিজাইন বিক্রি এবং ফ্রিল্যান্সিং করে। ফ্রিল্যান্সিং করে কতটা আয় করা যায় তা আপনারা ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটগুলোর দিকে একটু নজর দিলেই অনুমান করতে পারবেন।

৭. গ্রাফিক্স ডিজাইন রোবট বা মেশিন করতে পারে না

সৃজনশীল কাজ সাধারণত মেশিন কিংবা  রোবট করতে পারে না। গ্রাফিক্সের কাজ সৃজনশীল হওয়াতে অদূর ভবিষ্যতেও এই পেশা বেশ চাহিদা সম্পন্ন থাকবে। বর্তমান সময়ে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নির্ভর সফটওয়্যার কিংবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যদিও অনেক ডিজাইন করা যায়। কিন্তু এসব ডিজাইন দিয়ে আসলে সত্যিকার অর্থে কাজ হয় না।

৮. নিজের প্রতিভা প্রকাশ

সৃজনশীল পেশা হওয়ার সুবাদে গ্রাফিক্স ডিজাইনের মাধ্যমে আপনি আপনার নিজের প্রতিভা বিকশিত এবং প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন। গ্রাফিক্স ডিজাইন হলো রং, আকৃতি, বৈশিষ্ট্য নিয়ে খেলা। আর এই খেলার মাধ্যমে আপনি ফুটিয়ে তুলবেন কাঙ্ক্ষিত ডিজাইন। যখন আপনি অনেক ভালো ডিজাইন করবেন, তখন মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারবেন এবং নিজের আইডেন্টিও তৈরি হবে।

৯. শিক্ষক হিসাবে কাজ করার সুযোগ

গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার পর আপনি যদি চান যে আর কাজ করবেন না, সে ক্ষেত্রে আপনি শিক্ষকতার মতো মহান পেশাকে বেছে নিতে পারেন। নতুন নতুন মানুষকে আপনি গ্রাফিক্সের কাজ শেখাতে পারেন। এছাড়া শেখানোর মাধ্যমে আপনার আয়ের সুযোগ হবে। বর্তমানে অনলাইনে বেশ কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে আপনি ক্লাস নিতে পারবেন কিংবা ভিডিও ক্লাস করে আপলোড করতে পারবেন।

অফলাইনে ক্লাস করিয়েও আয় করার সুযোগ রয়েছে। বর্তমান সময়ে গ্রাফিক্স শেখার জন্য অনেকেই আগ্রহী আছে।

ভর্তির যোগ্যতা:

১। SSC / সমমান পরীক্ষায় যেকোন বিভাগ থেকে জিপিএ ২.০০ পেয়ে উত্তীর্ণ।

২। HSC (ভোকেশনাল) উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ক্রেডিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে শূন্য আসনে ৪র্থ পর্বে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে।

৩। HSC (বিজ্ঞান) উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা শূন্য আসনে ৩য় পর্বে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে।

অনলাইনে ভর্তির জন্য এই লিংকে প্রবেশ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.